নান্নুর কারণেই জাতীয় দলে ফিরতে পারিনি: লাইভে আশরাফুলের ক্ষোভ

মিনহাজুল আবেদিনের গুড বুকে নেই বলে জাতীয় দলে ফিরতে পারেননি মোহাম্মদ আশরাফুল। নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এমনটাই জানিয়েছেন আশরাফুল। আগের দিন নির্বাচক প্যানেল নিয়ে সমালোচনা করায় আশরাফুলকে দেশদ্রোহী বলেছেন মিনহাজুল আবেদিন। এমন আচরণ মোটেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাশ।

সম্প্রতি যমুনা টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আশরাফুল বলেছিলেন, ক্রিকেট দলের নির্বাচক প্যানেলের সদস্যদের কাজের মেয়াদ ৩ থেকে ৪ বছর হলে ভালো হয়। পরবর্তীতে যমুনা টিভিতে সম্প্রচারিত হওয়া ‘স্পোর্টস লাইভ’ নামক অনুষ্ঠানে নির্বাচক প্যানেলের মেয়াদ সম্পর্কিত এক আলোচনায় নান্নু বলেন, যেসব খেলোয়াড় দেশদ্রোহী হয়ে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে সাসপেন্ড হয়, তাদের কাছ থেকে ভালো কোনো পরামর্শ আশা করা যায় না।

রোববার (২ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে নাতিদীর্ঘ আলোচনা করেন আশরাফুল। সেখানে আশরাফুল নান্নুকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনার সাক্ষাৎকারেই বোঝা যাচ্ছে আপনার গুড বুকে আমি নেই বলেই এখন সুযোগ পাচ্ছি না। সেন্স ভাই আমাদের কম নেই। আল্লাহর রহমতে আমাদেরও মোটামুটি সেন্স আছে। খেলা নিয়ে আমরাও সারাদিন চিন্তা করি। ছোটবেলা থেকে এখনও ঘুম থেকে উঠে সারাদিন ক্রিকেট নিয়ে চিন্তা করি। সাদাকে সাদা বলবো, কালোকে কালো বলবো। অন্যায় করেছি স্বীকার করি। আমার আত্মবিশ্বাস আছে বলে এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

আশরাফুলের দাবি করেন, নির্বাচক প্যানেল নিয়ে তার করা ওই মন্তব্য নান্নুর উদ্দেশে ছিল না। বলেন, ‘আমি কোনো ব্যক্তির নাম বলিনি, আমি ওই দায়িত্বের কথা বলেছি। নান্নু ভাই লাইভে ঢুকে সরাসরি আক্রমণ করলেন আমার নাম ধরে। এটা আসলে খুব দুঃখজনক। আমি যে কথাটা বলেছি সেটা নান্নু ভাইকে নিয়ে বলিনি বা কারও নাম ধরে বলিনি। আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমার মতামত বলেছি। উনি খুব সুন্দর করে অস্ট্রেলিয়ার একজনের উদাহরণ দিলেন। আমি কিন্তু উনার নাম বলিনি যে নান্নু ভাইকে সরানো উচিত বা এমন কিছু। আমার মনে হয়েছে নির্বাচক পদ কোনো পেশা হতে পারে না যে আমি এখানে সারাজীবন থাকবো ১০-১২ বছর ধরে। এটা একটা সম্মানের জায়গা হবে, ৩-৪ বছর থাকবেন।’

আশরাফুল এ সময় নান্নুর সাথে তার অতীতের সুসম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন। নান্নুকে মাঠে পানি খাইয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) ম্যাচ খেলার সুযোগ অর্জন করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ সময় আশরাফুল বলেন, ‘পুরো ম্যাচ পানি খাইয়ে আমার পরের ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়েছিল। পানি নিয়ে দৌড়ে যেতাম, উনি চাইলেই খাওয়াতাম। পরে বললেন তুই পরের ম্যাচ খেলবি। নান্নু ভাইয়ের মাধ্যমেই আমার প্রিমিয়ার লিগে খেলা (অভিষেক)। আমি কখনও অতীত ভুলি না। অতীত সবসময় আমার মনে আছে।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *